মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

হযরত আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী:

 

শায়খে তরিকত, পেশওয়ায়ে আহলে সুন্নত, অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, অসংখ্য কিতাবের প্রণেতা বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক হযরতুল হাজ্ব আলস্নামা আজিজুল হক আল্ কাদেরী (মা:জি:আ:)। তার সংÿÿপ্ত পরিচিতি হল তিনি ১৯৪০ সালে হাটহাজারী থানার অমত্মর্গত ছিপাতলী গ্রামের সম্ভ্রামত্ম মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৌলভী মো: ইলিয়াছ এবং মাতার নাম কাজী মোসত্মফা খাতুন। তার চাচা মওলানা ইদ্রিস সাহেব ছিলেন সে সময়ের একজন বিজ্ঞ আলেম ও বুজুর্গ। তার দাদার নাম সুফী লাল মিয়া। তিনি সৈয়দ আব্দুল হামিদ বোগদাদী (রহ:) এর মুরিদ ছিলেন। এবং তিনার নানাজ্বান হযরত কাজী রফিক উদ্দীন মোহাম্মদ মারম্নফ শাহ্ (রহ:) এর বংশধর এবং তার নানার বংশের সকলেই উচ্চসত্মরের আলেম ও সূফী ছিলেন। হুজুর কেবল তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মানের স্বনাম ধন্য দ্বিনী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ওয়াজেদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা হতে ১৯৬৭ সালে কামিল হাদীস এবং ঢাক সরকারী আলিয়া হতে ১৯৬৮ সালে ফিক্হ শাস্ত্রে ডিগ্রী লাভ করেন।

এরপর তৎকালীন পূর্ব পাকিসত্মানের আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের প্রেসিডেন্ট ইমামে আহলে সুন্নত আলস্নামা আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহ:) কতৃক চট্টগ্রাম মুসলিম ইনষ্টিটিউট হলে আয়োজিত পবিত্র জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) কনফারেন্সে আমন্ত্রিত তৎকালিন পাকিসত্মান সুন্নি জামাতের প্রেসিডেন্ট গাজ্জালিয়ে জামান রাজিয়ে দাওরান মুহাদ্দেসে আজম আলস্নামা আহমদ সাঈদ কাজেমী (রহ:) এর তকরীর শুনে তাহার সান্নিধ্য লাভের এবং উচ্চ ডিগ্রী লাভের জন্য তৎকালীন পাকিসত্মানের বিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপিট ভাওয়ালপুর ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। এখান হতে ইলমে হাদীস ও ইলমে তফসীরে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। জাহেরী ইলম অর্জন শেষে হুজুর কেবলা বাতেনী এলম দ্বিÿা লাভে হুজুর আলস্নামা আহমদ সাঈদ কাজেমী (রহ:) হতে তরিকতের দীÿা লাভ করেন। হুজুর আলস্নমা কাজেমী (রহ:) হতে শরীয়ত ও তরিকতের দীÿা লাভ করে হুজুর কেবলা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং এদেশের মানুষকে আধ্যাত্নিক ও জাগতিক কল্যাণে ১৯৭১ সনে প্রতিষ্ঠিত করেন তরিকত ভিত্তিক সংগঠন আঞ্জুমানে কাদেরীয়া চিশতীয়া সাঈদীয়া বাংলাদেশ। পরবর্তী এদেশের মানুষকে সঠিক ঈমান-আকিদা ও মাজহাব মিলস্নাত এর সন্ধান দিতে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আধ্যাত্নিক ও জাগতিক প্রতিষ্ঠান ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মূঈনীয়া বহুমূখী কামিল মাদ্রাসা। যাহা মাত্র ১২ বৎসর-এ কামিল Power full হিসেবে পরিপূর্ণতা লাভ করে। যাহা বর্তমানে অনার্স, মাষ্টার্স তথা আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপামত্মরিত। যাহার ছায়ায় আমি অধম ধন্য এবং এটি শুধুমাত্র জাহেরী প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আধ্যাত্নিক কেন্দ্রও বটে যাহা আমি স্বপ্ন যোগে প্রমাণ লাভ করেছি। এখান হতে অসংখ্য আলেম, মুফতি, মুহাদ্দেস, মুফাচ্ছের বের হয়ে তারা দেশের প্রত্যমত্ম অঞ্চলে মাজহাব মিলস্নাতের খেদমত করে যাচ্ছেন। এ সম্পর্কে নামের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ প্রকাশ করার ইচ্ছা রয়েছে।

 

এছাড়াও হুজুর কেবলা ইলমে দ্বীনকে দেশের প্রত্যমত্ম অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য হাটহাজারী আন্ওয়ারম্নল ঊলম নোমানিয়া বহুমূখী সিনিয়র মাদ্রাসা, বেতবুনিয়া, মূঈনুল ঊলুম রেজভীয় সাঈদীয়া দাখিল মাদ্রাসা, শহরকুতুব আমানত শাহ তাহ্ফিজুল কোরআন মাদ্রাসা, হালিশহর এবং শাহপীর আউলিয়া বান্দরবান সহ অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, মকতব প্রতিষ্ঠা করেন। এর পাশাপাশি হুজুর কেবলা কলমের মাধ্যমেও দ্বীন ও মাজহাবের খেদমত করে চলেছেন। হুজুর কেবলা ইলমে শরীয়তের বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়ে মাস্আলা, ইলমে হাদীস, ইলমে তাফসীর এবং বাতিলদের বিভিন্ন বদ্ আকিদা হতে মুসলিম মিলস্নাতের ঈমান-আকিদাকে রÿার জন্য অসংখ্য কিতাব রচনা করেন। এর পাশাপাশি মাঠে ময়দানে বিভিন্ন সভা সেমিনার করেও মুসলিম মিলস্নাতের ঈমান আকিদা রÿা করে চলেছেন। মোট কথা বলা যায় হুজুর কেবলা মুসলিম মিলস্নাত তথা সুন্নিয়তের অতন্দ্র প্রহরী। সুতরাং মাজহাব মিলস্নাতের সার্বিক খেদমত ও অবদান এর ভিত্তিতে হুজুর কেবলা আলস্নামা আজিজুল হক আল্ কাদেরী ইমাম শেরে বাংলা (রহ:) এর পরে উলেস্নখযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মুরম্নবিব হিসাবে পরিগণিত এ সমসত্ম ব্যক্তি পৃথিবী হতে বিদায় নিলে মুসলিম মিলস্নাত সত্যিকার একজন গাইডার তথা পথ প্রদর্শককে হারাবে।